সৃষ্টির স্তম্ভ বিস্ময়কর সব বস্তু

সৃষ্টির স্তম্ভ।বিশাল এই মহাকাশে ছড়িয়ে বিস্ময়কর সব বস্তু, এদের সর্ম্পকে মানুষ যখন জানতে পারে তখন অবাক হয়ে যায়। এবং মানুষের কল্পনা এদের কাছে হার মানে।১৯৯০ সালে হাবল মহাকাশ দূরবীন একটি ছবি ধারন করে,এবং এই ছবিটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায় আয়োনিত হাইড্রোজেন, সাথে মহাজাগতিক ধুলার বিশাল তিনটি স্তম্ভ মহাকাশের বুকে পিলারের মত দাঁড়িয়ে আছে এদেরকে বলে evaporating gaseous globules (EGGs). সেই সাথে আরো দেখা যায় এই পিলারের অভ্যন্তরে নতুন নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে।এই পিলারের নাম দেয়া হয় ” The Pillars of Creation” বা সৃষ্টির স্তম্ভ। আসুন দেখা যাক বিস্ময়কর এই বস্তুটি কি? এটি আসলে এম-১৬ নামের একটি মুক্ত নক্ষত্রস্তবক (Open star cluster),কে ঘিরে থাকা বিশাল একটি নিহারীকা এর নাম ঈগল নিহারীকা।এর অন্য নাম গুলো হচ্ছে স্টার কুইন, এম-১৬,এন জি সি-৬৬১১ আই সি ৪৭০৩।

Date
5 January 2015, 23:15:00
Source
http://www.spacetelescope.org/news/heic1501/
Author
NASA, ESA, and the Hubble Heritage Team (STScI/AURA)
Permission
(Reusing this file)
http://www.spacetelescope.org/copyright/

১৭৪৫ সালে সুইস জ্যোতির্বিদ ফিলিপলোয়েস ডি চেসোক্স এম- ১৬ নক্ষত্রস্তবকটি আবিস্কার করেন।কিন্তু তিনি তখন এই স্তবকটির চারিদিক নিহারীকা দ্বারা পরিবেস্টিত তা দেখতে পাননি। চার্লস মেসিয়ার ১৭৬৪ সালের জুন মাসে নিহারীকা পরিবেস্টিত অবস্থায় নক্ষত্র স্তবকটি আবিস্কার করেন। এবং তার তালিকায় একে ১৬ নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করেন।এম-১৬ নক্ষত্র স্তবকটির ব্যাস ১৫ আলোকবর্ষ।আর ঈগল নিহারীকা ৭০ আলোকবর্ষ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে।এই নিহারীকাটির উচ্চতা ৯.৫ আলোকবর্ষ, নিহারীকাটির বয়স ৫.৫ মিলিয়ন বছর।নিহারীকাটি আমাদের সৌরজগতের থেকেও বড়। এই নিহারীকাটি মহাকাশের বড় একটি নক্ষত্রের আতুরঘর এর অভ্যন্তরে প্রচুর নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে।নিহারীকাটির চারিপাশে ২০ টি বিশাল আকারে নবীন নক্ষত্র আছে এদের তাপ এবং আলোতে নিহারীকাটির গ্যাস উতপ্ত হয়ে উজ্জল আলো ছড়াতে থাকে। ছবিতে নিহারীকাটির নীল রঙ অক্সিজেনকে উপস্থাপন করে,লাল সালফার এবং সবুজ নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন উভয় গ্যাসকে উপস্থাপন করে। এই নিহারীকাটির অবস্থান উত্তর -পূর্ব আকাশের সার্পনেস কুডা (সাপ)নক্ষত্র মন্ডলে এই মন্ডলটিকে জুন মাসে সবথেকে ভালো ভাবে দেখা যায়। ভালো মানের বাইনোকুলার দিয়ে ঈগল নিহারীকার যুগল নক্ষত্র এইচ ডি-১৬৮০৭৬ উজ্জলতা ৮.২খুব সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন। মাঝারী আকারের দুরবীন দিয়ে এর তিনটি স্তম্ভকে দেখতে পাবেন আর একদম অন্ধকার স্থান থেকে এম-১৬ কে খালিচোখে দেখা যায় নিহারীকিটির দৃশ্যমান উজ্জলতা ৬।পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ৭,০০০ হাজার আলোকবর্ষ। ঈগল নিহারীকার বর্তমান যে আকৃতি আমরা দেখতে পাই,তা আজ থেকে ৬০০০ হাজার বছর আগে একটি বিশাল সুপার নোভা (নক্ষত্রের বিস্ফোরন) বিস্ফোরনের ফলে এই পিলারের আকার পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা আরো অনেক অনেক বছর পরে এই পরিবর্তিত আকার দেখতে পাবো।মজার ব্যপার হলো আমরা বর্তমানে যে ঈগল নিহারীকাকে দেখছি তা অতীতের ঈগল নিহারীকা।ছবি সৌজন্যঃ হাবল,নাসা।লেখক ঃ নেবুলা মোর্শেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *